Thursday, 2 July 2026

ভাইকিংদের গৌরবগাথা, নাকি ইতিহাসের বিকৃতি?


 ভাইকিংদের ইতিহাসকে আজকাল এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা শুধু সাহসী যোদ্ধা ও অভিযাত্রী ছিল। অথচ ইতিহাসের আরেকটি বড় সত্য হলো—তারা ছিল লুটেরা, দখলদার, দাস ব্যবসায়ী এবং অসংখ্য নিরীহ মানুষের হত্যাকারী।

অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের বহু উপকূলীয় অঞ্চল তাদের হামলায় বিপর্যস্ত হয়েছে। শহর পুড়েছে, গ্রাম লুট হয়েছে, নারী-পুরুষ-শিশু কেউ রেহাই পায়নি। হাজার হাজার মানুষকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। এসব কোনো কিংবদন্তি নয়, ইতিহাসের নথিভুক্ত বাস্তবতা।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ সেই ভাইকিং পরিচয়কেই কুল, বাদাস, লেজেন্ডারি কিংবা "More Than Football" বলে উদযাপন করা হয়। সিনেমা, সিরিজ, গেমস, এমনকি ফুটবল সংস্কৃতিতেও তাদের প্রতীক গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। যেন ইতিহাসের নৃশংসতাগুলো গুরুত্বহীন।

কেউ বলতে পারেন, "আজকের স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা তো দায়ী নয়।" অবশ্যই নয়। বর্তমান প্রজন্মকে অতীতের অপরাধের জন্য দোষারোপ করা অন্যায়। কিন্তু তাই বলে সেই অপরাধীদের পরিচয়কে বীরত্বের প্রতীক বানানোও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

যদি ইতিহাসের অন্য কোনো গণহত্যাকারী, দখলদার বা দাস ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে একইভাবে ব্র্যান্ডিং করা হতো, তাহলে পৃথিবী কি একইভাবে তা গ্রহণ করত? নাকি তখন নৈতিকতার কথা সামনে চলে আসত?

ইতিহাসকে জানা এক জিনিস, আর ইতিহাসের অপরাধীদের গৌরবমণ্ডিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। ভাইকিংদের সামরিক দক্ষতা নিয়ে গবেষণা হতে পারে, কিন্তু তাদের নৃশংসতাকে রোমান্টিসাইজ করা কখনোই সভ্য সমাজের মানদণ্ড হতে পারে না।

লেখক 

সজিবুর রহমান নাছির 


No comments:

Post a Comment